সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

সাগরে ইলিশ ধরার উৎসব

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বঙ্গোপসাগরে দেখা মিলছে রূপালী ইলিশের। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও গত দু’সপ্তাহে বৈরী আবহাওয়ার পর সাগরে এখন চলছে ইলিশ ধরার উৎসব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে। আকারও বেশ বড়। তবে দাম একটু বেশি। ট্রলার ভর্তি করে ইলিশ নিয়ে হাসিমুখে কূলে ফিরছেন জেলেরা। সাগরে মাছ ধরা পড়ায় শহরের নুনিয়ারছড়া কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারিঘাট কর্মচাঞ্চল্য হয়ে উঠেছে। ভোরে ট্রলার থেকে মাছ খালাস করা ও হাঁকডাক দিয়ে বেচাকেনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন পর মাছ ভর্তি ট্রলার আসায় খুশি জেলে, ট্রলার মালিক ও আড়তদাররা।

সাগর তীরে নোঙর করে থাকা ট্রলারের জেলেরা জানান, মাছের প্রজনন নিশ্চিত ও নির্বিঘ্ন করতে গত ২০মে থেকে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে মৎস্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা শেষে লঘুচাপে সাগর উত্তাল থাকায় প্রায় এক সপ্তাহ জেলেরা মাছ ধরতে পারেনি। পরবর্তীতে সাগর শান্ত হলে ছোট-বড় প্রায় ৬ হাজার ট্রলার ইলিশ ধরতে সাগরে নামে। এখন সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ শিকার করছে জেলেরা।

তারা আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছের প্রজনন বেড়েছে এবং আকার বড় হয়েছে। এখন বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর দেড়, দুই ও আড়াই কেজি ওজনের ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে জালে। গত দুই মাস জেলে ও মৎস্যজীবীরা বেকার ছিলেন। ভরা মৌসুমের অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জেলেদের মাঝে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছিল। আশা করি জেলেদের জালে যে ইলিশ ধরা পড়ছে এতেই বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে আনতে পারবে তারা।

শুক্রবার সকালে সরেজমিন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোর থেকে একের পর এক মাছ ভর্তি ট্রলার ভিড়ছে ঘাটে। নুনিয়ারছড়া মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তগুলোতে এখন উৎসব-মুখর পরিবেশ বইছে। মৎস্য ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের যেন দম ফেলার সময় নেই। গত দুই দিন আগেও যেখানে ছিল সুনসান নীরবতা, সেই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এখন মানুষের কোলাহলে মুখর। জেলে, শ্রমিক, ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে সরগরম পুরোএলাকা।

সাগর থেকে একের পর এক ইলিশ ভর্তি করে ট্রলার আসছে আর ট্রলারের কোলস্টোর (ইলিশ সংরক্ষণের কোটর) থেকে মাছ খালাসের পর ঝাঁপি বোঝাই করে ইলিশ বিক্রয়ের জন্য অবতরণ কেন্দ্রের পন্টুনে স্তূপ করে রাখছেন ঘাট শ্রমিকরা। প্রতি ট্রলারে ৫শ’ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত ইলিশ ধরা পডছে। জালে ধরা পড়ছে গুইজ্যা, মাইট্যা, রাঙাচকি, চামিলা, রূপচাঁদা, মাইট্যা, বিভিন্ন জাতের পোপা, টুনা, লইট্যা, বিভিন্ন হাঙ্গরসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। মৎস্য ব্যবসায়ীরা খোলা ডাকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করছেন। আর কিনতে ভিড় করছেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া এসব মাছ পিকআপ, ট্রাক ও বড় ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন বাজারে চালান করতেও দেখা গেছে। এদিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় একদিনেই দাম বেশ কমেছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, এ বছর জেলেদের জালে বড় বড় ইলিশ ধরা পড়েছে বেশি। সাগরে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। যা আগে তারা দেখেননি। যার কারণে দামও পাওয়া যাচ্ছে বেশি। পাইকারিতে ৮শ’ থেকে ১ হাজার গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকায়, ১ হাজার গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১১শ’ থেকে ১৩শ’ টাকায়, আর ৫শ’ থেকে ৭শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকায় এবং ৫শ’ গ্রামের কম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকায়।

এফবি আব্দুল্লাহ ট্রলারের মালিক হাজী আব্দুল্লাহ জানান, বঙ্গোপসাগরের এখন জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। টানা ৭দিন জাল ফেলে আজ সকালে আমার ট্রলার ৩ হাজার ইলিশ নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে। ফিশারিঘাটে ইলিশ বিক্রি করে ভালো লাভের মুখ দেখেছি। এতদিন ইলিশ গভীর সাগরে হারিয়ে গিয়েছিল, এখন উপকূলের দিকে ছুটে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। সাগর কিছুটা শান্ত হওয়ায় অন্য জেলেরা ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরতে ট্রলার নিয়ে গভীর সাগরে রয়েছে। ধীরে ধীরে বিপুল পরিমাণ ইলিশও ধরা পড়ছে। আশা করছি এতে জেলেদের অভাব দূর হবে। ঘাটে নোঙর করা এফবি মরিয়ম ট্রলারের মাঝি ছুরত আলম জানান, সাগরে এখন ইলিশ উৎসব চলছে। জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে। অনেকদিন পর সাগরে মাছ ধরতে এসেছি। মাছের দাম কিছুটা বেশি, তবে আর কয়েকদিন পর মাছের দাম আরও অনেক কমে যাবে।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো বদরুজ্জামান বলেন, জেলায় ছোট-বড় মাছ ধরা ট্রলার আছে প্রায় ছয় হাজার। এসব ট্রলারে জেলে-শ্রমিকের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে মৎস্য বিভাগের নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৬৩ হাজার ১৯৩ জন। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বেচাবিক্রি হয়েছে ৭০ মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছ। এর মধ্যে ইলিশ ছিল ৬০ মেট্রিক টন। দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বেড়েছে। মাছের সাইজও বড় হয়েছে। তাই দীর্ঘ বিরতির পর সাগরে যখন জেলেরা মাছ আহরণে যান তখন ট্রলার ভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে পারছেন।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার জেলায় প্রতিদিন ৫শ’ টনের মতো মাছ ধরা পড়ছে। তন্মধ্যে ৬০ শতাংশই ইলিশ। গত অর্থবছরে জেলায় ইলিশ আহরণ হয়েছিল ৪১ হাজার মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিবছর ইলিশ মাছ রপ্তানি করে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ করা হয় বাংলাদেশ থেকে। সাগরে অবরোধ থাকার কারণে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com